উসখুস করতে করতে বিছানা থেকে উঠে পড়ে শুভ। গতকাল শুতে যে অনেক রাত হয়েছে। হিমাদ্রী ও পৃথ্বীশের সাথে মজা মশকরা আড্ডা দিয়ে গুড নাইট বলতে প্রায় আজ হয়েই গিয়েছিল। আগের সন্ধ্যাতেই, পূর্বপরিকল্পনা মতই ওরা এসে পৌঁছেছে। মশারির ভিতর থেকেই জানালার দিকে তাকিয়ে শুভ ভালোই বোঝে যে এখনও আলো ফোটেনি। কিন্তু কী করা যায়, ঘুম যে আর আসছে না। মনের ভিতর যেন কিসের একটা তাগিদ ও চাপা উত্তেজনা কিছুতেই দুই চোখের পাতা এক করতে দিচ্ছে না। অন্ধকার ঘরে বিছানার উপর হাতড়ে মোবাইলটা টেনে, সকালে ওঠার এলার্মটা বন্ধ করেই, গায়ের থেকে চাদরটা এক টানে সরিয়েই সে মশারির থেকে বেরিয়ে পড়ে।
ঘুম কেটে গেছে, সতেজ শরীর জুড়ে আজ যেন এক অদ্ভুত উদ্দীপনা। নিঃশব্দে গুটি গুটি পায়ে রাতভর ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ভেজা বারান্দায় গিয়ে মেঘলা আকাশের ফাঁকে শেষ বেলার চাঁদের দিকে তাকিয়ে সে আপন মনে উপলব্ধি করে যে বহু প্রতীক্ষিত, মনের ভীষণ কাছের কিছু মানুষের সাথে কাটানোর মুহূর্তর অপেক্ষা হয়তো এমনই হয়। ভাবতে ভাবতেই মোবাইলে টুং আওয়াজ। এত ভোরে আবার কে?
এই ভাবতে ভাবতে মোবাইলটা হাতে নিয়ে খুলতেই দেখে সৌরেন্দ্রর মেসেজ। আমি বেরোলাম। হোয়াটসঅ্যাপটা একটু উপরে ঠেলে তুলতেই গত রাতে সাগরের শিলিগুড়ি থেকে ট্রেনে ওঠার ছবি। সারা শরীরে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো উত্তেজনা খেলে যায়। মন আনন্দে নেচে ওঠে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেওয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়েই শুভ দেখে অ্যালার্ম বাজার সময় হয়ে গেছে। সাগরও হাওড়ায় নামল বলে! হুররে, সময় আসন্ন, এত পরিকল্পনা, এত আলোচনার পরে সেই বহু প্রতিক্ষার অবসান। আমাদের ছেলেবেলার স্কুলের বন্ধুদের বার্ষিক রিউনিওন। ঝট করে সাগর ও সৌরেন্দ্রর মেসেজে লাইক করেই মোবাইলটা রেখে, ওরা বেরিয়ে পড়ল, এবার আমাদেরও তৈরি হতে হবে বলতে বলতে শুভ ছুট্টে পাশের ঘরে চলে যায়।
ক্রমশ…



