যত বড় ভাবতে পারো, তার থেকেও বড়

Larger than

এবার Universe সম্পর্কে বলার কথা ছিল। আমরা তো অনেক সময়ই খবরের কাগজে, internet এ, TV তে বা বিভিন্ন journal এ মহাকাশ সম্পর্কে অনেক খবরই পড়ি, কিন্তু আমাদের কি সত্যিই কোন ধারণা আছে এই universe এর সৃষ্টি বা এর size সম্পর্কে? আমরা যে কত তুচ্ছ আর ক্ষুদ্র তা কি কখন ভেবেছি? আমরা ছাড়া আর কেউ অন্য কোথাও আছে কিনা তা জানতে ইচ্ছে করেনা? এই প্রশ্নগুলো বরাবরই আমাদের বড্ড ভাবিয়েছে। তবে এর অনেকটাই আমাদের এখনো অজানা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বহু বৈজ্ঞানিক রাত দিন এক করে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে এখনো পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গেছে তা যথেষ্ট আশ্চর্যজনক।

মহাকাশ সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে কিছু একক সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রয়োজন। Advanced Calculus এ Limit বলে একটা concept আছে। অঙ্কের সাথে যে দর্শনের একটা নিবিড় যোগ আছে তা এর থেকেই বোঝা যায়। Limit এ কোন এক সংখ্যার কাছাকাছি সংখ্যা ভাবতে হয়। ধরো যদি বলি limit tending towards 10, তার মানে ১০ এর যত কাছের সংখ্যা ভাবতে পারছো তার থেকেও কাছে। আর যদি বলা হয় limit tending towards infinity, তার মানে তুমি যত বড় সংখ্যা ভাবতে পারছো, তার থেকেও বড় সংখ্যা। এরকম ভাবনা না ভাবতে পারলে মহাকাশ বোঝা সম্ভব নয়।

এখানে সব কিছুই এত বড়, যে তা বোঝাতে বলতেই হবে “আমরা যত বড় ভাবতে পারি, এ তার থেকেও বড়”। যেমন ধরো, তোমাকে যদি বড় সংখ্যা ভাবতে বলি, কত বড় ভাবতে পারবে, যা লিখে প্রকাশ করা যায়? Million (১,০০০,০০০) বা billion (১,০০০,০০০,০০০)। এর চেয়েও বড়। অসুবিধা হচ্ছে? ভাবছো এর তো কোন শেষ নেই কিন্ত এত বড় সংখ্যার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? আছে আছে! তবে, আগে বলি আমাদের কত বড় সংখ্যা তার নাম সহ লিখতে পারি, বা Billion এর পরে আর বড় কি আছে? Trillion (১২ টা শূন্য), Quadrillion (১৫ টা শূন্য), Quintillion (১৮ টা শূন্য), Sextillion (২১ টা শূন্য), Septillion (২৪ টা শূন্য), Octillion (২৭ টা শূন্য) … এভাবে Centillion (৩০৩ টা শূন্য)। এত বড় ভাবতে পারছো? ভাবতে ও বুঝতে হবেই, নইলে যে এর পরের গল্প অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পরবে।

এতক্ষণে নিশ্চই “যত বড় ভাবতে পারো তার থেকেও বড়” এই ভাবনাটা পরিস্কার হয়েছে। এবার বলি আশ্চর্যজনক ঘটনাগুলি। কখনো ভেবেছো যে আমরা সবাই ঘন্টায় প্রায় ১০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর সাথে ঘুরে চলেছি। যেখানে আজও অত্যাধুনিক technology ব্যবহার করেও আমরা ঘন্টায় ৩০০ মাইল বেগে ট্রেন আর ১২০০ মাইল বেগে প্লেন চালাতে সক্ষম হয়েছি (তবে fighter plane এর maximum speed আজ প্রায় ৪৫২০ মাইল প্রতি ঘন্টা)। তবে রকেটের গতি অনেক বেশি, কারণ তা না হলে তো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ থেকে বেড়োতেই পারতাম না। জানো কি, মহাকাশে সব দূরত্ব নতুন এক একক “আলোকবর্ষ” তে মাপা হয়। আবার একটা বড় সংখ্যা। আলোই এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগামী। এর গতি ১,৮৬,০০০ মাইল প্রতি সেকেন্ড। এই গতিতে আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই এক আলোকবর্ষ। ভাবতে পারছো সংখ্যাটা কত? 58,786,000,000,000,000 মাইল (প্রায় ৯,৪৬১,০০০,০০০,০০০,০০০ কিলো মিটার)। আরেকটা একক আছে “Astronomical Unit (AU)”। 1 AU = পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সূর্যের কেন্দ্রের দূরত্ব = ১৪৯.৬ মিলিয়ন কিলোমিটার।

এবার একটা তুলনা দেই। তাহলেই মনে হয় এই পর্বত প্রমান দূরত্ব বুঝতে সুবিধা হবে। পৃথিবীর ব্যাস (diameter) ১২,৭৪২ কিলোমিটার। বৃহস্পতির ১৩৮,৮২২ কিলোমিটার, সূর্যের ১.৩৯১৪ মিলিয়ন কিলোমিটার। সৌরজগতের ব্যাপ্তি ৪.৫৪৫ বিলিয়ন কিলোমিটার আর আমাদের Milkyway Galaxy র ক্ষেত্রে সেটা ১০০,০০০ আলোকবর্ষ। এখনো পর্যন্ত জানা সর্ববৃহৎ planet TRES4D এর diameter বৃহস্পতির ১.৭৯৯ গুণ আর পৃথিবী থেকে দূরত্ব ১৪৩০ আলোকবর্ষ। শেষ তুলনা দিই। এখন পর্যন্ত আমাদের জানা সবচেয়ে বড় নক্ষত্র হল VY Canis Majoris। যার পৃথিবী থেকে দূরত্ব ৪৮৯২ আলোকবর্ষ, radius ১,৩২১,৪৫০,০০০ মাইল, আর এটি সূর্যের থেকে ১৭০০ গুণ diameter এ বড় এবং ২১ বিলিয়ন গুণ আয়তনে বড়।

তাহলে বুঝতে পারছো যে মহাকাশ কত বড়? এখনো পর্যন্ত আমাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে যতটা জানা গেছে তা অনুযায়ী মহাকাশের ব্যাপ্তি ৯১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ আর এতে বিলিয়ন বিলিয়ন milkyway র মত galaxy আছে। আর আমরা এখনো পর্যন্ত শুধু চাঁদে যেতে পেরেছি। এবার বুঝতে পারছো আমাদের এখনো কত কিছু জানা বাকি? বাইরে থেকে কোন alien যদি আমাদের কাছে আসে তারা কত উন্নত হবে? alien র কথা কল্পনা মনে হলেও তা বেশি দিন থাকবে না। আমরা গত ১২ ই মে মহাকাশ থেকে কিছু অজানা আওয়াজ পেয়েছি। অনেক বিশ্লেষণের পর জানা গেছে ওটা ১১ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত Ross 128 নামক একটা নক্ষত্র থেকে এসেছে যার আবার পৃথিবীর মত গ্রহ আছে। তাহলে আর alien নেই কি করে বলি? বিজ্ঞানীরাও বলছে এ শব্দ Extra terrestrial alien এরই।

এবার বলতো, আমাদের অস্তিত্ব কত বড়? কি ধারণা পরিবর্তন হয়ে গেল? হ্যাঁ, ঠিকই! এখন থেকে রাতে আকাশের দিকে ওই শুকতারা বা অগণিত তারার দিকে তাকিয়ে ভেবো। দেখবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে ওই গভীর মহাকাশে। কত যে অজানা অদ্ভুত তথ্য লুকানো আছে কে জানে। তার কতটা আমাদের মত ক্ষুদ্র তুচ্ছ র হাতে ধরা পড়ে তারই অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top