দূরত্ব তো negative…

Distance

 সেদিন কিছু college র বন্ধুদের সাথে আড্ডা চলছিল। আর আমাদের আড্ডা মানেই তো সেই পুরানো college আর hostel এর সোনালী দিন গুলোর একটা quick flashback। যদিও এখন ভাবলে পাগলামি মনে হয়, কিন্তু সেই সময়ে সেটাই ছিল জীবন। আমাদের এই আলোচনায় একটা বিশেষ ঘটনার কথা প্রতিবারই চলে আসে, আর তার সাথে প্রাপ্তি আমাদের বাঁধ ভাঙ্গা হাসি! ভাবছেন কি এমন ঘটনা? শুনলে তাজ্জব বনে যাবেন, আর হলফ্‌ করে বলতে পারি, আপনিও হাসবেন। শুনুন তাহলে!

সময়টা এক শীতের সকাল। class এর বাইরের সিঁড়িতে বসে আমরা চা আর সিগারেট হাতে নিখাদ আড্ডায় ব্যাস্ত। আলোচ্য় বিষয়গুলো important নয়, কারণ আমাদের কাছে তখন আলোচনাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল! হাসি ঠাট্টা আর ভাঁট এই তিনটে বিষয়ই যে আমাদের college এ যাওয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তারই আরেকটা নজির সৃষ্টি করেই ফেলতাম, যদি না ওই ফাজিলটা এসে Astronomy র class এ যাওয়ার কথা বলতো। এই মনোরম সৃষ্টি ছেড়ে class! ইচ্ছে না থাকলেও semester এর চাপে সবাই গিয়ে নিজেদের জায়গায় বসলাম। নিজেদের জায়গা মানে ওই last bench এ , যেটা আমাদের জন্য booked থাকতো। না না পড়াশোনায় মনোযোগের অভাবে নয়! আমরা কিন্তু traditional back benchers ছিলাম না। আসলে কার class কতক্ষণ করবো সেটা ঠিক করার জন্য। বুঝলেন না? class এ দুটো দরজা ছিল। একটা first bench এর সামনে, আরেকটা last bench। class চলাকালীন তো আর sir এর সামনে দিয়ে first bench এর সামনের দরজা দিয়ে তো বেরোনো যায়না! তাই last bench। বুঝলেন এবার? 😛

Astronomy র class বেশ গম্ভীর ভাবে চলছে! Celestial sphere, Astronomical time & distance, 3D Geometry ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে sir বুঝিয়ে চলেছেন। না এখনো বেড়িয়ে যাওয়ার কথা কারও মাথাতেই আসেনি। মন দিয়ে সবাই board এর দিকে তাকিয়ে Astronomically complex calculation আর symbols বোঝার চেষ্টা করছে। তো সেই গনণার কোন এক ধাপে স্যারের কোন এক তুচ্ছ সূক্ষ্ম ভুলের জন্য সূর্য আর চন্দ্রের দূরত্ব negative (ঋণাত্মক) বেড়িয়েছে। স্যারও তা উপলব্ধি করে তার ভুল খুঁজতে ব্যাস্ত। আমরাও ততক্ষণে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে এদিক ওদিক ঘুরে ক্ষণিকের আড্ডায় মেতে উঠলাম। হঠাৎ দেখি জোর করে আমাদের class এ নিয়ে আসা সেই “দায়িত্ববান” উঠে সামনের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আলতো স্বরে চেঁচিয়ে বলার চেষ্টা করলাম, ওরে emergency exit এদিকে, Astronomy পড়ে ভুলে গেলি নাকি! কোন পাত্তা না দিয়ে সে সামনের দরজা বন্ধ করে দিল। অবাক হয়ে দূর থেকে ইশারায় আমরা বললাম what is this? মুখ ফুটে কিছু বলার আগেই প্রশ্নটা স্যারই করে ফেললেন। কি হল, দরজা বন্ধ করলে কেন? এবার বলুন, এহেন অবস্থায় একজনের কি উত্তর হতে পারে? না না, পারবেন না!

নিষ্পলকে ভাবলেশহীন মুখে ভীষণ গম্ভীর ভাবে সে বলল “স্যার, পৃথিবী আর চাঁদের দূরত্ব তো negetive, যে কোন সময়ে দরজা দিয়ে চাঁদ ঢুকে পড়তে পারে, তাই দরজাটা লাগিয়ে দিলাম!!!” ব্যাস, আর যায় কোথায়? সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম, স্যার ও থাকতে না পেরে আমাদের সাথেই যোগ দিলেন! উপরি পাওনা হল এই যে, সেদিনের class ওখানেই শেষ হল। স্যার আর চাপ না নিয়ে, আচ্ছা এই theory টা পরের দিন হবে, আজ এখানেই থাক বলে সেদিনের মত প্রস্থান করলেন। আমরাও বাইরে এসে আবার সেই সবজান্তাদের আড্ডায় মেতে উঠলাম, তবে বেশ কিছুদিন আলোচ্য় বিষয় ছিল এই একটাই!!!

এইরকম ছিল আমাদের জীবন। আরও কত যে এরকম ঘটনা আছে তার কোন শেষ নেই। আসলে Astronomy নিয়েই আজ কিছু বলার ছিল। তা বলতে গেলে বেশ সময় লাগবে। আর এই ঘটনা বলতে বলতে যে college এর দিন গুলোর কথা মনে পরে গেল। এই সপ্তাহে বরং এখানেই থাক। Astronomy নিয়ে বক্তব্যটা পরের সপ্তাহের জন্যই তোলা থাক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top