এমনিই মনে হল…

“এই শুভ, আমাদের computer টা কি যে হয়েছে কে জানে! কিছুতেই চলছেনা। একটু দেখে দেবে”! কিন্তু কাকু, আমি কি পারবো? তুমি বরং দোকানেই দেখিয়ে নাও। সন্দেহের চোখে কাকুর প্রশ্ন তুমি computer engineer না? উঃ কি জ্বালা! তা বলে আমি computer সাড়াই করি নাকি? সত্যিই আমি computer science নিয়েই পড়েছি। কিন্তু কি করে বোঝাই আমি office এ কি কাজ করি!

আমাদের মত so called professionals দের কার্যকলাপ নিয়ে এহেন সন্দেহের কোন শেষ নেই। একে তো তথ্যপ্রযুক্তি তকমাওয়ালা জরুরি কালীন পরিষেবার সমকক্ষ হওয়ায় সব রকম ধর্মঘটের আওতায় বাইরে। অথচ এদের কোন সংগঠন নেই। তার উপর এরা আবার কেউ কেউ বাড়ি থেকেও কাজ করে! কখনো এ শহরে কখনো ও দেশে! বাতানুকুল বহুতলে এদের দপ্তর! সত্যিই highly suspicious। “আচ্ছা, তোমাদের কাজটা কি বলতো”? শেষে কিনা এত পড়াশুনা করে গলদঘর্ম হয়ে কোনক্রমে একটা কাজ জোটালাম, সেটা আবার সন্দেহজনক! এমন দিনও দেখালে ঠাকুর!

আসলে কি বলুন তো, যতই হোক আখেড়ে সেই বেসরকারি চাকরিই তো! নাক তো কুছকাবেই। বেসরকারি চাকরি আবার চাকরি নাকি। এই আছে এই নেই। এক কাঁড়ি টাকা দিলে কি হবে, যে কোন দিন চলে যেতে পারে। দু পয়সা কম পেলেও চাকরি হতে হবে সরকারি। এই তো খাঁটি বাঙ্গালীর মত ভেবেছেন!!!

পাশের বাড়ির পিকলুদা বছর পাঁচেকের কঠোর পরিশ্রমের শেষে সরকারি চাকরি পেয়েছে। মাঝেমধ্যে ওকে office এ নিয়ে যাওয়ার জন্য সকালে একটা রঙ ওঠা সাদা ambassador আসে, যার ছেড়ে যাওয়া কালো ধোঁয়া পরবর্তী পাঁচ মিনিট ধরে সবাইকে বুঝিয়ে দেয় যে একজন সরকারি কর্মচারী দপ্তরে গেলেন। গাড়িটাতে আবার প্রমাণ স্বরূপ রংচটা অর্ধচন্দ্রাকৃতি পাতলা টিনের পাতে লাল রঙের সরকারি তকমাও আছে। পিকলুদার ব্যক্তিগত কাজও ওই গাড়িতেই হয়। ওই তো সেদিন কোন এক নেমতন্ন বাড়িতে বৌদিকে নিয়ে ওই গাড়িতেই তো গেল। কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম। আমি অবশ্য বাড়ি থেকে office এর কাজ করছিলাম! 😛 কত বড় চাকরি করে বলতো আমাদের পিকলু! Office এর গাড়ি আসে! আরে সে তো আমারও আসে। পাঁচ বছরের অনেক আগে থেকেই আসে। আর ওই ধ্যারধ্যারে ambassador নয়, আধুনিক sedan with a.c. তাহলে আমার বেলায় নাক কুছকানো কেন হে? বাণের জলে ভেসে এসেছি নাকি কাকু?

হা হা, নচিকেতার সেই গানটা মনে পড়ছে! আজ আবার তাদেরই কে যেন “ভৌ ভৌ” এর সাথে নিজেদেরই তুলনা করেছেন। উফ্ এরা পারেও! সবাই বেশ cultural আছেন। যতই হোক, সরকারি বলে কথা! এতো কিছু হলেও চাকরির guarantee তো আছে। আমাদের অত সমস্যা নেই। কিছু পছন্দ না হলে যে কেউ প্রস্থান করতে পারে, কোন কিছুরই guarantee নেই। কেউ কিছু গায়েই মাখে না। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সালটে নিই। ওসব “সংগঠন-টংগঠন” লাগে না।

আসলে আমরা বাঙালিরা ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া অন্য কোন পেশা সহজে গ্রাহ্যই করিনা। বাকিদের খাওয়াই জোটে না, আমরা ভাই তাই বিশ্বাস করি। আরও কয়েকটা জিনিসও আমরা ভালো পারি। ওই যে বললাম আমরা সবাই বেশ cultural আছি! তাও তো ডাক্তাররা কিছুটা হলেও ভাগ্যবান। “বাবু” তকমাটা তো জোটে! আমরা এখানেও ব্রাত্য।

সে যাই হোক, আমরা ভাই আমাদেরই মত। সেজন্যই তো এখন সবাই যা আজ ভাবে, আমরা সেটাই ভাবি কিন্তু কাল! কিন্তু তাতে কিই বা এল গেল? এই তো বেশ আছি এই সবজান্তার দেশে। কিছু পারি না পারি, আমাদের মত সমালোচনা কেউ করতে পারবেনা ভাই। ওই জায়গাটা শুধু আমাদের। আমাদের ভাবনা যে একটু হাটকে! নইলে এত শব্দ ছেড়ে নিজের প্রাণনাথকে যে “বাজে ডাক্তার” বা “ছোট দাদাবাবু” বা “গোমড়ামুখো” বলেও ডাকা যায় যা কেই বা ভাবতে পেরেছে? এবার বলো কাকু আমরা সত্যিই cultural কিনা?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top