সংবাদপত্রে পড়লাম দিনে দুই ঘন্টার বেশি গাড়ি চালালে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এ আবার গবেষণার অপেক্ষা রাখে নাকি? ও আচ্ছা, সুদূর আমেরিকায় এ সত্যতা প্রমাণে সময় লাগে বটে। তবে আমাদের কলকাতায় ট্যাক্সি চালকদের আচরনে এ তথ্য তো বহুকাল আগেই প্রমানিত। আমিওতো এর অনেক বেশি গাড়ি চালাই, তবে কি আমিও বিপদ সীমায় দাঁড়িয়ে? যখন সাধারন পরিবহন ব্যাবহার করতাম, তখন মস্তিষ্ক বেশি কার্যকর ছিল বলে তো মনে হয়না।
তবে হ্যাঁ, কিছু চালকদের আচরন সত্যিই অবিশ্বাস্য। কি মানতে পারছেন না তো? নিজেকে বেশ দায়িত্ববান চালক ভাবছেন? তা হতেই পারেন, সেটাই তো কাম্য।
সেদিন দূর থেকে আসা গাড়িটার দিকে লক্ষ্য রেখে নিজ মস্তিষ্কে একটা জটিল অঙ্ক কষে রাস্তা পাড় হওয়ার সঠিক গতি নির্ধারণ করে এগিয়ে গেলাম। গাড়িটি গতি কমাবার বদলে উল্টো বাড়িয়ে দিয়ে আমার মস্তিষ্ক প্রসূত গাণিতিক হিসাব গরবর করে দিল। আমরা বাঙ্গালিরা এমনিতেই এতটা সাবধানী যে একমুখী রাস্তারও দুই দিক দেখে পার হই। তাদেরকেও যে চালকরা এহেন বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে, তারা নিঃসন্দেহে ওই গবেষণার প্রমাণ বহন করে চলেছেন।
আমি তো সেদিন এক pool car এর চালককে বলেই ফেললাম “ও দাদা, আপনার গাড়িটা একবার দেখিয়ে নিন, মনে হচ্ছে আপনার গাড়ির horn টা accelerator এর সাথে connect হয়ে গেছে।” এমন উদাহরণের অভাব নেই। হাত দেখালেই বাস থেমে যায়, রাস্তার মাঝেও দাঁড়াতে পারে। তা আপনি অমন জায়গায় হাত তুলেছেন কেন? ভাগ্যিস বিমানের ক্ষেত্রে এমটি হয়না। 😛 সবকিছু চালকের দোষ তা মানব কেন? ওই গবেষণার ফল আপনাকেও যে ভাগ করে নিতে হবে।


