গতকাল স্বাধীনতার দিবস গিয়াছে। স্বাধীন হইবার আনন্দের যেরূপের বহিঃপ্রকাশ সারাদিন ধরিয়া উপলব্ধি করিলাম, তাহাতে আনন্দ ব্যাতিরেকে কিঞ্চিৎ আক্ষেপই হইল। দিনকাল বদলাইয়া যাইতেছে বুঝিয়াও যেন এইহেন উল্লাস মানিয়া লইতে পারিতেছিলাম না। স্বাধীনতার দিনেও যেন স্বাধীনতার স্বাদে খামতি রহিয়াই গেল। আজ সকাল হইতেই দেখিলাম সেই উল্লাসে ভাটা পরিয়াছে। মনে শান্তি অনুভব করিলাম। বাহিরে আকাশপানে চাহিয়া মন জুড়াইয়া গেল, এক অনাবিল আনন্দের স্বাদ পাইলাম। আকাশ বুঝাইয়া দিলে শরৎ আসন্ন, মায়ের আসার সময় হইয়াছে। কিসের যেন একখানি টান অনুভব করিলাম। মন ছুটিল। বাহির হইয়া পড়িলাম। প্রথমেই সিমলাপাড়ায় স্বামীজির বসতবাটি। মনপ্রাণ ভরিয়া উঠিল সেই স্থানের পবিত্রতায়। সত্যই যেন অনুভুত হইল আমার আদর্শপুরুষের উপস্থিতি। ওই স্থানের মাহাত্ম্যে শিহরন জাগিল। মন স্থির হইল, পবিত্র হইল। তবু যেন স্বাদ মিটিল না। পৌঁছাইলাম সোজা কুমারটুলি। আহা, সেই প্রাতঃকালের আকাশ দেখিয়া যে মন আকুল হইয়াছিল, কুমারটুলিতে মায়ের রূপ দেখিয়া সেই আকুলতার যেন নিবারণ হইল। ধীরপদে গঙ্গার ঘাটে গিয়া স্থির হইয়া অনন্তের দিকে চাহিয়া রহিলাম। কি শান্তি। উপলব্ধি করিলাম বার্তা আসিয়াছে, সকলে তৈরি হও, মা আসিতেছেন।


