হঠাৎ শুনি অজানা কোন বিপদ দিয়েছে হানা।
সুদূর চীনে জবর থাবা বসিয়েছে করোনা।।
সবকিছু তো ভালই ছিল, হঠাৎ যে কি হল।
দিনে দিনে বিপদ যেন ভীষন বেড়ে গেল।।
কিসের থেকে হল এমন, কে ছড়াল ত্রাস।
অনেক খুঁজে পাওয়া গেল অদৃশ্য ভাইরাস।।
ক্ষুদ্র ওরা, মানুয মোরা, হবেই শীঘ্র জব্দ।
দাম্ভিক গলায় মোদের তখন শ্রেষ্ঠত্বের শব্দ।।
চিন্তা কিসের দেখবি এমন বানাবো এক দাওয়াই।
কয়েক ফোঁটা যাদুবলেই খতম ওরা সবাই।।
শ্রেষ্ঠ যখন ব্যাস্ত সেই যাদু দাওয়াই এর খোঁজেই।
ছোট্ট থাবা বসেই গেল কিচ্ছুটি বোঝার আগেই।।
দেখতে তাদের পাইনা তবু এমন ওদের গতি।
দাওয়াই মোরা খুঁজবো তখন প্রাণে বাঁচি যদি।।
চীন ছেড়ে ওই ক্ষুদ্র ওরা পৃথিবী জয়ের পথে।
শ্রেষ্ঠ মোরা ভাবছি এখন পারবো তো ওদের সাথে।।
জ্ঞানে বিজ্ঞানে শক্তি বলে দুনিয়া আমার মুঠে।
আজ সেই আমি বেশ জব্দ ক্ষুদ্র অদৃশ্যের হাতে।।
এখন বুঝি শ্রেষ্ঠ হওয়ার অহং ছিল মিছে।
বড় অসহায় আমরা আজও এই প্রকৃতির কাছে।।
লড়াই তো নয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে গেছে আজ।
বিশ্ব জুড়ে সবাই লড়ছে শিকেয় তুলে কাজ।।
বন্দী ঘরে জনতা লড়ে রেখে হাতে হাত।
দারোগা বদ্যি লড়াই করে মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ।।
অবাক লড়াই বিশ্বে সবাই এক তারেতে বাঁধা।
সবাই ভাবে পরের কথা ভুলিয়ে সকল বাধা।
সকল প্রাণী মুক্ত যে আজ প্রাণে দারুণ মজা।
শ্রেষ্ঠ যে সে গৃহবন্দী প্রকৃতির কি সাজা।।
নীল আকাশ শুদ্ধ বাতাস সজীব তরুবর।
মানুষ আজ সাজা পেয়েছে ওরা পেয়েছে বর।
প্রকৃতি বলে অনেক সয়েছি তোদের অত্যাচার।
শ্রেষ্ঠ আসনে বসেই তোদের মনে ছিল অহংকার।।
নিজের ভেবে আমার সবই দিয়েছিলি বিগড়িয়ে।
অপেক্ষায় ছিলাম সাজা দেওয়ার ইচ্ছেটা মনে নিয়ে।।
সুযোগ আছে এখোনো নিজেকে একটু সামলে নাও।
বিভেদ ভুলে সকলে মিলে একসাথে এগিয়ে যাও।।
নিজেই সব আজ ঠিক করবো প্রতিটা অঙ্ক কষে।
তোরা যে বড্ড পিছিয়ে গেছিস এগিয়ে যাওয়ার রোষে।।
কথা দিলাম ফিরিয়ে আবার দেবো সবই, একটু ধৈর্য ধর।
আবার যদি এমন করিস, কঠিন সাজা থাকবে প্রাপ্য তোর।।


