সবচেয়ে পুরানো ধর্ম হল আমাদের হিন্দু ধর্ম এবং এই ধর্ম নাকি অনেক বেশি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এ ধরনের মন্তব্য আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, এমনকি কখনো কখনো নিজেরাও তর্কের খাতিরে করেও থাকি। কিন্তু কত পুরানো আমাদের এই হিন্দু ধর্ম? চারটি বেদেই কি সীমাবদ্ধ? কি আছে এই পৌরাণিক গ্রন্থ গুলিতে? কতটা প্রাসঙ্গিক আজকের দিনে? এই সব প্রশ্নেরই উত্তর খুজবো আজ! সঙ্গে জানার চেষ্টা করবো শাস্ত্রমতে আমাদের দুর্গোৎসবের আচার আনুষ্ঠানের তাৎপর্য।
সংস্কৃতে “বেদ” শব্দের অর্থ “জ্ঞান“। প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাপ্ত সবচেয়ে বড় জ্ঞান গ্রন্থ হল এই বেদ, যা লেখা হয়েছিল প্রাচীন সংস্কৃতে। প্রাচীন হিন্দুত্বে বেদকে “অপৌরুষেয়” এবং “নৈর্ব্যক্তিক” হিসাবে গণ্য করা হয়। “শ্রুতি” হিসাবে পরিচিত এই বৈদিক সাহিত্য মুখে মুখেই যুগের পর যুগ বিদ্যমান ছিল। গবেষণা অনুযায়ী বার্চ গাছের ছালে আর পাম গাছের পাতায় প্রথম লিখিত বেদের সন্ধান পাওয়া যায় চৌদ্দ শতাব্দীতে। হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত অনুযায়ী বেদের স্রষ্টা স্বয়ং ব্রহ্মা। ঐতিহাসিক ও ধর্মতত্ববিদদের অনুসন্ধান অনুযায়ী বেদের শ্লোক গুলি প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের কঠোর ধ্যান ও অনুশাসনের উপলব্ধি দ্বারা সৃষ্ট। একই ভাবে বেদের স্তবগান গুলিও ঋষিদেরই সৃষ্টি। চারটি বেদ ঋক্ (১০২৮ টি স্তবগান ও ১০৬০০ টি শ্লোক সহ সর্বপ্রাচীন বৈদিক সাহিত্য), সাম (১৫৪৯ টি স্তবকে গান ও অর্চিক), যজুঃ (প্রধানত যজ্ঞ সংক্রান্ত ধর্মানুষ্ঠান মন্ত্র ও রীতি) এবং অথর্ব (৭৬০ টি স্তবগান), এর প্রতিটি আবার সংহিতা (মন্ত্র ও আশীর্বচন), আরন্যক (আচার অনুষ্ঠান ও বলিদান এবং প্রতীকী উৎসর্গ নিয়মাবলী), ব্রাক্ষণ্য (ধর্মীয় আনুষ্ঠানিক নিয়মাবলী) এবং উপনিষদ (ধ্যান, দর্শন ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান) এই চার ভাগে উপবিভাজিত! কিছু ধর্মতত্ববিদদের মতে উপাসনা (পূজা) নামক পঞ্চম ভাগও আছে।
বেদই হল পৃথিবীর প্রাচীনতম পবিত্র গ্রন্থ। গবেষণা অনুযায়ী এই গ্রন্থের সৃষ্টি প্রায় ১৭০০ – ৫০০ B.C। এই সময়ই আমাদের কাছে বৈদিক যুগ হিসাবে পরিচিত। ভারতীয় সভ্যতায় ব্রোঞ্জ যুগের শেষ ও লৌহ যুগের শুরুর সময় হল এই বৈদিক যুগ। এখানেই শেষ নয়। এর পর শুরু হয় বৈদিক পরবর্তী যুগের সাহিত্য। যে সময়ে সৃষ্টি হয় বেদাঙ্গ, পরিশিষ্ট, উপবেদ এবং পুরাণ।
বেদাঙ্গ সৃষ্টি হয় বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। বহু শতাব্দী পূর্বে সৃষ্টি বৈদিক দর্শনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই ছিল এর লক্ষ্য। বেদাঙ্গের মুল বিষয় ছয়টি, শিক্ষা, ছন্দ, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, কল্প ও জ্যোতিষ। কল্প বেদাঙ্গই পরবর্তীকালে ধর্মসূত্র ও আরও পরে ধর্ম শাস্ত্রে পরিণত হয়। বেদাঙ্গ দ্বারাই পরবর্তী কালে হিন্দু দর্শনে ভাষা, শব্দ, কলা ও সংস্কৃতি স্থান পায়। প্রতিটি বেদাঙ্গ বিষয়, সূত্র বহন করে।
পরিশিষ্ট বৈদিক সাহিত্যের আরেক দিক যা বিস্তারিত ও যুক্তিসম্মত ভাবে ধর্মানুষ্ঠান ও তার আচার ব্যাখ্যা করে। সবকটি বেদের সাথে পরিশিষ্টর যোগ থাকলেও অথর্ব বেদেই এর উল্লেখ সর্বাধিক! উদাহরণ স্বরূপ অশ্বলায়ান গৃহ পরিশিষ্ট, গোভিলা গৃহ পরিশিষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি।
উপবেদ প্রযুক্তিগত কাজের প্রয়োগ জ্ঞান। যেমন ঋক্ বেদের ধনুর্বেদ, সাম বেদের গন্ধর্ববেদ, যজুঃ বেদের স্থাপত্যবেদ ও অথর্ব বেদের আয়ুর্বেদ।
পুরাণ হল হিন্দু ঐতিহ্য, কিংবদন্তী ও পৌরাণিক কাহিনী সমৃদ্ধ সুবিশাল বৈদিক সাহিত্য, যা প্রধানত হিন্দু দেবতা শিব, বিষ্ণু ও দেবী কেন্দ্রীক। ৪ লক্ষেরও বেশি শ্লোক সহ ১৮ টি মহাপুরাণ ও ১৮ টি উপপুরাণ সমৃদ্ধ এই সুবিশাল সাহিত্য। এই পুরাণ সাহিত্যই পরবর্তী কালে হিন্দু সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে এবং ভারতবর্ষে ভক্তি আন্দোলনের পিছনেও এর প্রভাব অনস্বীকার্য।
এছাড়াও আছে সূত্র ও শাস্ত্র! সূত্র হল শ্লোক, অনুব্যাখ্যা ও ব্যাখ্যা দ্বারা গঠিত নিয়মাবলী, যা একটি নির্দিষ্ট বার্তা বহন করে। যেমন কামসূত্র, ব্রক্ষসূত্র, ন্যায়সূত্র, যোগসূত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। শাস্ত্র হল কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান। যেমন ধর্মশাস্ত্র, নাট্যশাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই হল আমাদের ধর্ম। কি ভাবতে অবাক লাগছে, যে আজও আমরা যা যা করি তা সবই আমাদের প্রাচীন ধর্মে বহু আগেই বর্ণিত আছে? Medical, Engineering, Economics, Political Science, Philosophy, Literature সব আমাদের হিন্দু ধর্মে বহু আগেই বর্ণিত আছে। এত সম্ভ্রান্ত একটা ধর্মের আমরা কতটাই বা জানি? জানার চেষ্টাও কি করি? সব কিছুতে একটা অদ্ভুত কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের মধ্যে নিজেদের জড়িয়ে রেখেছি। অথচ আমাদের ধর্ম তা কখনোই বলেনা!
এতো গেল ধর্ম কথা! আজ তো মহানবমী। দেবী দুর্গার মর্তে থাকার সময় প্রায় শেষ! আর মাত্র একদিন। পৌরাণিক মতে দুর্গার সাথে মহিষাসুরের যুদ্ধর গল্প তো সবাই জানে। মহালায়ার পর দেবীর মর্তে বাপের বাড়িতে আগমনের কথাও সবাই জানে, সৌজন্যে দূরদর্শন! এখন আর কতজন মহালয়ার দিন সকালে উঠে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের পাঠ শোনে জানিনা, তবে দূরদর্শনে যে কেউ আর মহিষাসুর মর্দিনী দেখেনা তা আমি ভালই জানি। তার থেকে আজকাল DC বা Marvels Pictures এর গ্রীক ও রোমান দেব দেবীর রূপকথা অনেক বেশি আকর্ষণীয় আমাদের কাছে! শিব, বিষ্ণু, পার্বতী র গল্প কে আর দেখে, বরং Zeus, Ares, Poseidon, Athena, Apollo এদের গল্পে একটা ব্যাপার আছে। আছে নাকি সে টান টান উত্তেজনা আমাদের শিব, বিষ্ণু র গল্পে? একবার পড়েই দেখ না! হলফ্ করে বলছি, খারাপ লাগবে না। আচ্ছা বেশ, এই যে দুর্গা পুজায় এতো আনন্দ করছো, কতটা জানো এই পুজার গল্প বা আচার আনুষ্ঠানের অন্তর্নিহিত অর্থ? আচ্ছা, মহালয়া কি? কেন এই তর্পণ? দেবীর বোধন থেকে বিসর্জন, কি কি নিয়ম আছে ও কেন? জানো না তো! তাহলে শোন…
মহাভারতে কর্ণ “দাতা কর্ণ” হিসাবে পরিচিত। সারাজীবন সে বহু মানুষকে ধন ঐশ্বর্য দান করে এসেছে। তার এই মহৎ কর্মের ফল স্বরূপ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তার মৃত্যুর পর সরাসরি স্বর্গলাভ হয়। কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি এখানেই! খাদ্য স্বরূপ কর্ণকে স্বর্ণ, রৌপ্য, হিরে, মানিক এসব পরিবেশন করা হল। বেযায় বিপদে বেচারা কর্ণ! অনেক চেষ্টার পর তিনি প্রশ্ন করলে দেবরাজ ইন্দ্র তাকে জানায় “এর কারণ তুমি সারাজীবন সোনা রুপা দান করেছো, কিন্তু কখনোই পূর্ব পিতৃপুরুষকে শ্রাদ্ধের মাধ্যমে খাদ্য ও জল দান করনি”। কর্ণ জানায় সে এই নিয়ম সম্পর্কে অবগতই ছিল না কারণ তার কাছে নিজের পিতৃপুরুষের পরিচয়ই অজানা ছিল। তাকে আরেকটা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে এই বিচার করে, দেবরাজ কর্ণকে পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধকার্য ও জল দান সম্পন্ন করার জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়ে মর্তলোকে ফিরে যাওয়ার বিধান দেয়। সূর্য তুলা রাশিতে প্রবেশ করলে কর্ণ ফিরে আসে মর্তলোকে। এই ১৫ দিনই মর্তলোকে পিতৃ পক্ষ রুপে বিবেচিত হয়। সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের অবসান। গরুড় পুরাণ মতে মৃত্যুর পর শেষ তিন পুরুষের আত্মা পিতৃলোকে (স্বর্গ ও মর্তের মাঝে) বাস করে এবং এই ১৫ দিনের জন্য তাঁরা পিতৃলোক ছেড়ে গৃহস্থের ঘরে ফিরে আসে। এই ১৫ দিনের মধ্যেও বিশেষ ভাবে মৃত্যুর জন্য শ্রাদ্ধাদির দিন ভাগ করা আছে। যেমন চতুর্থী ও পঞ্চমী গত বছরে মারা যাওয়া লোকেদের জন্য, নবমীর দিন সধবা মহিলাদের জন্য, দ্বাদশী শিশুদের জন্য, চতুর্দশী অপঘাতে মৃত্যুর জন্য। এরপর অমাবস্যা, যা মহালয়া নামে পরিচিত, সেই দিনটি সকলের জন্য। বাঙ্গালি মতে এই দিন থেকেই দেবী পক্ষের শুরু। এই দিনই দেবী দুর্গা তার শ্বশুর বাড়ি কৈলাশ থেকে বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
মহালয়া শব্দের অর্থ মহা + লয়, অর্থাৎ মহা যুদ্ধ। এই দিনই দেবতা ও ঋষি দের সাথে অসুরদের যুদ্ধের শেষ। ভাদ্র মাসের ক্ষীয়মান চান্দ্রেয় সময় থেকে এই যুদ্ধের শুরু আর শেষ এই মহালয়ার অমাবস্যায়। ব্রক্ষার বরে অজেয় রম্ভা ও শাপগ্রস্ত মহিষরুপী রাজকন্যা শ্যামলা পুত্র মহিষাসুর দ্বারা হারের পর তাদের বিপদ মুক্ত করতে সকল দেবতা ও ঋষিগণ উপস্থিত হন ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের কাছে। মহিষাসুর নাশের জন্য এই তিন দেবের শক্তির সমন্বয়ে সৃষ্টি দেবী দুর্গার! ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে তাঁর সৃষ্টি হওয়ায় দেবীর আরেক নাম কাত্যায়নী। এই সর্বশক্তিমান দেবীকে দেবতা ও ঋষিরা তাদের অস্ত্রে সুশোভিত করে তোলেন। বিষ্ণু দিলেন চক্র, শিব দিলেন ত্রিশুল, বরুন দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন বর্শা, বায়ু দিলেন ধনুক, সূর্য দিলেন তূণীর ও তীর, যম দিলেন কালদন্ড, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, কুবের দিলেন মুক্তাহার আর হিমালয় দিলেন সিংহ।
দেবী পক্ষের ষষ্ঠ দিন দেবীর অকাল বোধন। এই দিন মাতৃমুখ উন্মোচন হয়। মাকে অস্ত্রে সুশোভিত মায়ের মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে দেবীকে আমন্ত্রন জানিয়ে দুর্গোৎসবের শুভারম্ভ হয়। মা তার বাপের বাড়ীতে আসায় প্রথা অনুযায়ী তাঁর জন্য অধিবাসও পাঠানো হয়ে থাকে।
সপ্তমী পূজা শুরু হয় নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে। এখানে কিছু পৌরাণিক গল্প আছে। নবপত্রিকা বা কলাবউ আসলে আদৌ কারও বউ নয়। কথিত আছে অকাল বোধন দ্বারা মায়ের জাগরণের পর দেবী ষষ্ঠীর রাতে বেল গাছের তলায় বিশ্রাম নেন। তাই সপ্তমীর সকালে সেই বেল গাছের ডাল দ্বিখণ্ডিত করে এক খণ্ড পুজার ঘটে প্রতিষ্ঠা করা হয়। আরেক খন্ড বেঁধে দেওয়া হয় আরও আটটি অন্যান্য গাছের সাথে। এই নয়টি গাছের বাঁধনকেই বলা হয় নবপত্রিকা। নবপত্রিকা আসলে মায়ের নয়টি শক্তি রুপ। মূর্তি রুপে মায়ের আরাধনার আগে এই নবপত্রিকা রুপেই ভারতবরষে দেবী দুর্গার পুজা পালিত হত। নবপত্রিকা আসলে প্রকৃতি রুপে মায়ের আরাধনা। কলা গাছ (ব্রাক্ষণী), হলুদ গাছ (দুর্গা), কালো কচু গাছ (কালী), জয়ন্তি গাছ (কার্ত্তিকী), বেল গাছ (শিব), ডালিম গাছ (রক্তচন্ডিকা), অশোক গাছ (শক্রাহিতা), মানকচু (চামুন্ডা), ধান গাছ (লক্ষী)। নিয়মানুসারে এই নবপত্রিকাকে আটটি আলাদা জলে স্নান করিয়ে গণেশের বাম দিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এতে কোন ভাবেই নবপত্রিকা সিদ্ধিদাতার বউ হয় না! কার্ত্তিক চিরকুমার, তাই গণেশের পাশেই তাঁর প্রকৃত স্থান। পুরাণের গল্প অনুযায়ী গণেশের বরযাত্রী কিছুদুর যেতেই গণেশের মনে পরে সে কিছু একটা ভুলে ফেলে এসেছে। সেটা নিতে ঘরে ফিরেই সে দেখে, তাঁর মা দুর্গা বাটি ভর্তি ভাত গোগ্রাসে খাচ্ছেন! গণেশ প্রশ্ন করতেই ছেলেকে মায়ের উত্তর “যদি তোর বউ আমাকে খেতে না দেয়”? মায়ের উত্তরে চিন্তিত হয়ে সিদ্ধিদাতা বাড়ির বাইরে গিয়ে একটি কলাগাছ কেটে এনে মা কে দিয়ে বলেন “আজ থেকে এই তোমার বউ”। এর থেকেই কলাবউ এর সৃষ্টি। কিছু মত অনুযায়ী গণেশ পরে কলাগাছকে বিয়েও করেন!
এর পরের দিন সবচেয়ে বড় ও পবিত্র পুজার দিন “অষ্টমী”। আর এই অষ্টমীর সবচেয়ে পবিত্র ক্ষণ হল সন্ধিপুজা। মহাঅষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট আর মহানবমীর প্রথম ২৪ মিনিট হল সন্ধিক্ষণ। এই হল সেই সময় যখন মা দুর্গা অসুর চন্ড আর মুন্ডকে নিধন করেন।
দশমী বা বিজয়া দশমী হল পুজার শেষ দিন। এই দিনই দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধন করেন। তবে অকাল বোধনে দশমীর দিন রাম রাবণ বধ করেন। সেজন্যই উত্তর ভারতে এই দিন রাবণের পুত্তলিকা পোড়ানোর মাধ্যমে দশেরা পালন করা হয়। অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয় উদযাপনই বিজয়া দশমীর মূল মন্ত্র। মায়ের মূর্তি বিসর্জন তাঁর বাপের বাড়ি থেকে কৈলাশে শ্বশুর বাড়ির যাত্রাই বোঝায়। সেসঙ্গেই শেষ হয় বহুপ্রতিক্ষার দুর্গোৎসব!
থেকে যায় শুধু অপেক্ষা আর দিন গোণার পালা। মনে মনে সবাই বলে ওঠে “সবাইকে ভালো রেখো মা… আবার এসো মা…”


